1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
হাইকোর্টের রায়ে ইতিহাসে এটাই প্রথম রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল: প্রধান বিচারপতি - Janatar Jagoron

হাইকোর্টের রায়ে ইতিহাসে এটাই প্রথম রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল: প্রধান বিচারপতি

  • সর্বশেষ আপডেট: মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০২৫
  • ৩১৫ বার পঠিত
প্রধান বিচারপতি

প্রথমবারের মতো রাজনীতি থেকে বাদ এক সময়ের ক্ষমতাধর দল!
অনলাইন ডেস্ক

নতুন মোড় নিল জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ইস্যু—বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের নজির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

মঙ্গলবার (১৩ মে) সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরে পেতে করা আপিলের শুনানিকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী অধ্যায়—এই প্রথমবার একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সরাসরি হাইকোর্টের রায়ে বাতিল হলো।”

শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রবীণ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। সাথে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম।

এর আগে ৭ মে, আপিল বিভাগ ১৩ মে শুনানির দিন নির্ধারণ করে। যদিও চলতি বছরের ১২ মার্চ বিষয়টির শুনানি শুরু হয়েছিল, পরে তা অনির্ধারিত সময়ের জন্য স্থগিত ছিল।

২০২3 সালের ২২ অক্টোবর আপিল বিভাগ জামায়াতের খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আদেশ দেয়, যা দলটির আইনগত লড়াইয়ের পথ খুলে দেয়—দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা আবার আলোচনায় আসে।

জানা যায়, ১৯৮৬ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ব্যবহার করে আসছে। ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর দলটি নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে সাময়িক নিবন্ধন পায়। তবে, জামায়াতের নিবন্ধন বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তরীকত ফেডারেশনের তৎকালীন মহাসচিবসহ আরও ২৫ জন ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিট করেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট বৃহত্তর বেঞ্চের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে জামায়াতকে দেওয়া নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে। একই সাথে আপিল করার অনুমতি দেয়।

সে বছরই আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি জামায়াতের স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করেন। ২ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে দলটি নিয়মিত আপিল করে।

এই রায়ের পর ২০১৪ সালের নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হয়ে দলটি ভোট বর্জন করে। পরে ২০১৮ সালে কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীককে কেবলমাত্র ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের মনোগ্রামে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে ২০১৭ সালের ৯ মার্চ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বাতিল করে ইসি।

এরপর জামায়াতের পক্ষ থেকে ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি প্রতীকটি ফেরত চেয়ে বিবৃতি দেন তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান, যা ছিল স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের ইঙ্গিত।

বর্তমানে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনে প্রতীক নিয়ে অংশ নিতে হলে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। ইসিতে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫০টি, যাদের জন্য ৫০টি প্রতীক সংরক্ষিত আছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য রয়েছে আরও ২৫টি প্রতীক, যার মধ্যে ‘দাঁড়িপাল্লা’ নেই।

এদিকে ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর, কোনো আইনজীবী অনুপস্থিত থাকার অজুহাতে জামায়াতের আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

অন্যদিকে, গত ১ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যেই শেখ হাসিনা সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারা অনুসারে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে। তবে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ২৮ আগস্ট সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।

এই জটিল আইনি প্রক্রিয়ায় জামায়াতের নিবন্ধন ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ফিরে পাওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক উত্তাপের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়—আইন ও ইতিহাসের এই বিরল ছকের ভেতর দিয়ে দলটি আদৌ নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরতে পারে কি না।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..